পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডের একটি সম্পূণ নির্দেশিকা

8 minute
Read
pexels-karolina-grabowska-5942604.jpg

Highlights
আপনার কি পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে অ্যাকাউন্ট আছে? এই অ্যাকাউন্টের সুবিধাগুলি জানেন? যদি না জানেন তাহলে জেনে নিন এই অ্যাকাউন্টের সুবিধা। আর তৈরি করে ফেলুন একটি অ্যাকাউন্ট। আর একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ুন।

(You can read this blog in English here)

মুখপত্র

1968 সালে অর্থ মন্ত্রকের ন্যাশনাল সেভিংস ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ছোট ছোট সঞ্চয়গুলি বিনিয়োগের আকারে জমা করা এবং সেই সঞ্চয়গুলি জনতাকে ফেরৎ দেওয়া ছিল এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। পিপিএফ-এর স্কিমগুলিতে আকর্ষণীয় হারে সুদ দেয় এবং আপনাকে দেওয়া সুদের হারের উপর কোনও ট্যাক্স দিতে হবে না।

এটি সেভিংস-কাম-ট্যাক্স-সেভিংস ইনভেস্টমেন্ট হিসেবেও পরিচিত কারণ, 80C ধারা অনুযায়ী, সঞ্চয়ের উপর বার্ষিক কর জমা হয়ে আপনার অবসরকালীন তহবিল বা রিটায়ারমেন্ট কর্পাস তৈরি হয়।

আপনি যদি ট্যাক্স বাঁচানোর জন্য নিরাপদে বিনিয়োগের উপায় খোঁজেন তাহলে এটিই সেরা বিকল্প হতে পারে। পিপিএফ-এ একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে নূন্যতম 500 টাকার প্রয়োজন, এবং একটি অর্থবর্ষে সর্বাধিক 15 লাখ টাকা অনুমোদিত হয়। এই ফান্ডে প্রতিমাসে আপনি 12 টি কিস্তিতে টাকা জমা দিতে পারেন। এর মেয়াদকাল 15 বছর, মেয়াদ পূর্তির এক বছরের মধ্যে আপনি বাড়তি 5 বছরের জন্য আবেদন করতে পারেন, তাতে মেয়াদকাল আরও 5 বছর বেড়ে যাবে।

পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম

নিম্নলিখিত শর্তাবলী অনুযায়ী আপনি পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করতে পারেন এবং একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন:

  • পিপিএফ-এ অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনাকে অবশ্যই ভারতীয় হতে হবে। 
  • আপনার একটিমাত্র পিপিএফ থাকতে পারে।
  • প্রবাসী ভারতীয়রা পিপিএফ-এ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, ভারতীয় ঠিকানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, যার মেয়াদকাল 15 বছর। বাড়তি মেয়াদের কোনও বিকল্প নেই।
  • বয়সের বৈধ প্রমাণপত্র থাকলে একজন নাবালিক/নাবালিকা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

2005 সালের 13ই মে নির্দিষ্ট আইন পাশের পর হিন্দু অবিভাক্ত পরিবার (HUF) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। এই তারিখের আগে পর্যন্ত পিপিএফ-এ খোলা অ্যাকাউন্টগুলিকে 15 বছর পর্যন্ত পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

পিপিএফ খুলতে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসমূহ

পূর্বে কেবলমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে এই অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি ছিল। তবে বর্তমানে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিও পিপিএফ-এর স্কিম দিতে শুরু করেছে।

আপনি যখন একটি পিপিএফ-এ অ্যাকাউন্ট খুলবেন, তখন অবশ্যই আপনাকে কিছু নথিপত্র দিতে হবে। জমা দিতে হবে এমন নথিপত্রসমূহের নিম্নে তালিকা দেওয়া হল:

  • পিপিএফ-এ একটি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে, অনলাইনে কিংবা নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের শাখা থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারেন। আপনি ওই ফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা তোলা এবং লোনের জন্য তালিকা পাবেন। 
  • বাসস্থানের প্রমাণপত্র থাকা টেলিফোনের একটি বিল, বিদ্যুতের বিল, রেশন কার্ড অথবা আধার কার্ড। প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট নমিনেশন ফর্ম, অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের 2টি পাসপোর্ট সাইজ ফটোকপি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি প্রাপ্তবয়স্ক না হন, তাহলে বয়সের বৈধ প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হবে।

পিপিএফের স্কিমগুলির প্রধান বৈশিষ্টসমূহ নিম্নে দেওয়া হল:

  • অ্যাকাউন্টের মেয়াদকাল: অ্যাকাউন্টের মেয়াদকাল পূর্ণ হয় 15 বছরে, যা ম্যাচিউরিটি পিরিওড নামে পরিচিত। তবে অ্যাকাউন্টের মেয়াদকাল আরও 5 বছর বাড়ানো যেতে পারে।
  • টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি: অনলাইন, নেট ব্যাঙ্কি, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড কিংবা ডিম্যান্ড ড্রাফ্টের মাধ্যমে, অথবা চেক বা নগদে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারেন।
  • পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ: নূন্যতম 100 থেকে সর্বাধিক 1.5 লাখ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। যদি বার্ষিক বিনিয়োগের পরিমাণ 1.5 লাখ টাকার উপর হয় তাহলে কোনও কর কর্তন দাবি করা যাবে না, সেইসঙ্গে কোনও সুদও পাওয়া যাবে না।
  • নূন্যতম এবং সর্বাধিক পরিমাণ: এক অর্থবর্ষে নূন্যতম থেকে সর্বাধিক বিনিয়োগের পরিমাণ হতে হবে 500-1.5 লাখ টাকা। এক বছরে সর্বাধিক 12টি কিস্তিতে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন।
  • ডিপোজিট ফ্রিকোয়েন্সি: 15 বছরের মেয়াদকালীন সময়ে বছরে একবার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে হবে।
  • পিপিএফ অ্যাকাউন্টের ভিত্তিতে লোন: অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখের পর তৃতীয় এবং পঞ্চম অর্থবর্ষে লোন পাওয়া যায়। লোনের পরিমাণ অবশ্যই দ্বিতীয় অর্থবর্ষের শেষে অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা অর্থের 25% হতে হবে। ষষ্ঠ অর্থবর্ষের পরেও লোন পাওয়া সম্ভব। তবে যাইহোক, আপনি যদি দ্বিতীয় লোন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রথম লোন পরিশোধ করতে হবে।
  • একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত সুরক্ষিত, কারণ সমস্ত পিপিএফ অ্যাকাউন্ট গ্য়ারান্টি সহকারে ফেরৎ দেয়, মূলধন সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত থাকে এবং ভারত সরকার দ্বারা স্কিমগুলি পরিচালিত হয়। ফলে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলার ঝুঁকিও কম।

পিপিএফ অ্যাকাউন্টের সুবিধা

একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলায় আপনি কিছু সুবিধা পাবেন। সুবিধাগুলি নিম্নে দেওয়া হল:

  • পিপিএফ অ্যাকাউন্টের একটি প্রধান সুবিধা হল এই যে, 1.5 লাখ টাকা পর্যন্ত 80C ধারা অনুযায়ী বিনিয়োগের উপর কর ছাড়ের দাবি করতে পারেন।
  • বিপদমুক্ত সুদের হার- আপনি 8% সুদের হার পেতে পারেন, যা অন্যান্য স্কিমের তুলনায় যুক্তিসম্মত। প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি একটি বেশ ভাল 15 বছরের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ।
  • চক্রবৃদ্ধি সুদের হার: চলতি অর্থবর্ষের শেষে আপনার সুদ দেওয়া হয়, যা প্রতি বছরের 31 শে মার্চ দেওয়া হয়ে থাকে। এই অ্যাকাউন্টে বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দেওয়া হয়।
  • কম বিনিয়োগের টোকেন: বিনিয়োগের জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন নেই, প্রতিবছরে আপনাকে অবশ্যই কিছু টাকা জমা করতে হবে।
  • উইথড্রল করার সুবিধা: পিপিএফ স্কিমে 7 অর্থবর্ষ শেষে আপনি আংশিক উইথড্রল করার সুবিধা নিতে পারেন।

পিপিএফ উইথড্রলের পদ্ধতি:

স্কিম চালু করার প্রথম অর্থবর্ষ থেকে পঞ্চম অর্থবর্ষ শেষে আপনি পিপিএফ অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার পরিমাণের 50% টাকা তুলে নিয়ে পিপিএফ উইথড্রল করার অনুমতি পেতে পারেন। এছাড়া প্রতি অর্থবর্ষে একটি আংশিক পরিমাণে উইথড্রল করতে পারেন। আসুন, একটি উদাহরণ দিয়ে আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া যাক: 25শে জানুয়ারি, 2012 সালে A একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলেন। এক্ষেত্রে A কেবলমাত্র 2017-18 অর্থবর্ষে ফান্ড থেকে একটি অংশ উইথড্রল করার অনুমতি পাবে।

উইথড্রলের জন্য উপযুক্ত পরিমাণ অর্থ

উইথড্রলের জন্য উপলব্ধ মোট টাকার পরিমাণ, তাদের যোগফলের চেয়ে কম হতে হবে-

  • চলতি বছরের আগে, 50% অথবা আগের অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে থাকা টাকার পরিমাণের অর্থেক হতে হবে।
  • চলতি বছরের আগে, 50% অথবা আগের অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে থাকা টাকার পরিমাণের অর্থেক হতে হবে।

তবে যাইহোক, অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে বছরে একবার টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। 15 বছরের মেয়াদ শেষে, সুদ সহ পুরো টাকা তোলার অনুমতি পেয়ে যান অ্যাকাউন্ট হোল্ডার।

image-description
report Report this post